সোমবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং। ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। সকাল ৬:০১








প্রচ্ছদ » শিল্প সাহিত্য

একুশে বইমেলায় মিঠা মামুনের উপন্যাস “এসো, হাত ধরো”

একুশে বইমেলা, প্রাণের মেলা। পাঠক আর লেখকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ।  এ বছরের বই মেলায় এসেছে  তরুণ লেখক, আবৃত্তিকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক মিঠা মামুন এর প্রথম উপন্যাস “এসো, হাত ধরো”। “এসো, হাত ধরো” একটি রোমান্টিক উপন্যাস। বইটি ইতোমধ্যে পাঠকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বইটি প্রকাশ করছে দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা অনিন্দ্য প্রকাশ ।  বইটি পাওয়া  যাচ্ছে একুশে বইমেলার (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ৩ নম্বর প্যাভিলিয়নে। এছাড়াও বইটি পাওয়া যাচ্ছে রকমারি, বইপোকাসহ দেশের বিভিন্ন অনলাইন শপে।

বইটি নিয়ে লেখক মিঠা মামুন বলেন, “এসো, হাত ধরো” আমার প্রথম উপন্যাস।  ভাবতে পারিনি পাঠক এভাবে বইটি গ্রহণ করবে। পাঠকের এত ভালোবাসা আমার জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা। তাদের এই অনুপ্রেরণা আমাকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে চেষ্টা করব পাঠকের মাঝে আরও ভালো কিছু দেওয়ার।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

ফ্ল্যাপ থেকেঃ

ভালোবাসা এক চঞ্চল অনুভূতির নাম।ভালোবাসার অনুভূতিতে কে কখন কেমন হয়ে যাবে তা আসলে কেউ জানে না । আবার কখনো কখনো মনে হয় ভালোবাসা একটা অসুখের নাম।
এই উপন্যাসে আনন্দ আর স্বর্ণা যেন ভালোবাসার স্বর্গরাজ্যের কপোত কপোতী। তাদের স্বপ্ন জুড়ে জ্যোৎস্নার মায়া, বৃষ্টির টুপটাপ মিহিতান, পাহাড়ের বুক জুড়ে সবুজের সম্মোহন আর হাওয়াই মিঠাই জীবনের ছোট ছোট শৈল্পিক অনুভূতির ছোঁয়া। সুখ আর ভালোবাসা যেন রংধনু হয়ে তাদের জীবনকে ঘিরে রেখেছে।তাদের ভালোবাসার কোন পরিধি নেই,নেই কোন সীমা পরিসীমা।কিন্তু জীবন হচ্ছে বহতা নদীর মতো।কখনো জীবনের ধারা স্রোতমুখী,কখনো বা বিপরীতমুখী।
সুখ, দুঃখ কোনটাই চিরস্থায়ী নয়।সুখ আর দুঃখ একটা আরেকটার পরিপূরক।দুঃখ ছাড়া সুখের মাহাত্ম্য বোঝা যায় না। তাই মনে হয় স্বর্ণার সবচেয়ে সুখের দিনে দুঃখের কালোমেঘ হয়ে আসে একটা মৃত্যুসংবাদ। সেই মৃত্যুসংবাদে জীবন যেন অনেকটা স্মৃতির আয়নার মতো স্থবির হয়ে যায়।
মৃত্যুর এক অবিনশ্বর রুপ আছে।সে কখন কাকে কীভাবে স্মৃতি করে দিবে আগে থেকে কেউ তা বলতে পারে না।বেঁচে থাকতে যা নিষিদ্ধ মৃত্যুর সাথে সাথে তা আরাধ্য হয়ে উঠতে পারে।
মানুষ চাইলেই সব সময় তার জীবনের লাগাম নিজ হাতে ধরে রাখতে পারে না। বেয়াড়া সময় কখনো কখনো জীবনকে পাগলা ঘোড়ার শক্তিতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। জীবন খুঁজতে গিয়ে নতুন জীবনের আহবান ও নিয়তির কষাঘাতে স্বর্ণাও এমন এক সত্যের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।

লেখকের কথাঃ 

“এসো, হাত ধরো হাতে
চলো অন্তহীন পথে
এসো তুমি আর আমি
দু’চোখে স্বপ্ন হয়ে নামি।”
.
ভালোবাসা খুব সংক্রামক। মানুষ সেদিকেই ধাবিত হয় যেখানে বা যার কাছে সে ভালোবাসা পায়।
ভালোবাসার মানুষকে আলিঙ্গনের স্পর্শে যদি অক্ষরের মত স্পষ্ট স্মৃতি জন্ম না নেয় কিংবা
আদরের নৌকোতে যদি ভেসে না ওঠে সুখের অমৃতসর তবে সে ভালোবাসা কখনো ভালোবাসাই নয়।
জীবনে ভালোবেসে সুখী হওয়ার জন্য প্রেমিক প্রেমিকা বা পূর্ব পরিচিত হওয়াটা জরুরী নয়;জরুরী হলো ভালোবাসার মতো একটা মন থাকা,ভাল থাকার বা ভালো রাখার মতো সৎ চেষ্টাটুকু থাকা।
জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নাম বিবাহ। যে মানুষ বৈবাহিক সম্পর্কে সুখী নয় তার জীবনের কোথাও সুখ নেই। সেইসব ভেতর পোড়া মানুষের যে সুখটা দেখা যায় সেটা কেবল লোকদেখানো সামাজিকতা ।মৃতপ্রেমে মিথ্যে হাসি হাসতে গিয়ে আজকাল বহু মানুষ নিজের ভেতর নিজেই যেন গুমরে মরে।অথচ চাইলেই ছোট ছোট অনুভূতির চাহিদাকে তার প্রাপ্ত সম্মান আর ভালোবাসা জানিয়ে সুখী হওয়া যায়।

বর্তমান সময়ের দাম্পত্য জীবনের এত দ্বন্দ্ব-সংঘাত,হতাশা,কলহ আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের সামনে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি সংসার কেমন হতে পারে তার গল্প লিখতে।
বিবাহিত জীবনে ভালোবাসা থাকার পূর্বশর্ত হচ্ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,বিশ্বস্ততা, নির্ভরশীলতা,মুগ্ধতা আর একে অপরকে বুঝতে পারার কিংবা ছাড় দেবার মানসিকতা ।

যে মানুষটার সাথে আজীবনের জন্য আমরা বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই সেই মানুষটার ভালো লাগা,মন্দ লাগা,তার ছোট ছোট অনুভূতিগুলোর প্রতি সচেতন হলেই একটি সফল দাম্পত্য জীবন রচনা করা যায়।
আনন্দ আর স্বর্ণা স্বামী স্ত্রী।তারা তাদের ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবীর বুকেই স্বর্গ রচনা করেছে।তারা একজন আরেকজনের পৃথিবী হয়ে উঠেছে।তাদের জীবন আবর্তিত হয়েছে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে।
জীবনে দুঃখ কষ্ট থাকবেই।তখন যদি প্রিয় মানুষটা পাশে থেকে শক্ত করে হাত ধরে বলে-“ভেবোনা,আমি আছি তো”।জীবন তখন পূর্ণ হয়ে ওঠে। তাখন চাইলেই পৃথিবীর সব জরাজীর্ণতা,হতাশা,দুঃখকে পেছনে ফেলে তারা নতুন করে ভালোবাসায় নিমজ্জিত স্বর্গ সুখের নীড় রচনা করতে পারে।

একজন লেখক হিসেবে এটুকু প্রত্যাশা করি অন্তত একজন মানুষও যদি আমার এই ভালোবাসার গল্পগাঁথা পড়ে তাদের জীবনে ভালোবাসার স্বপ্ন রচনা করতে পারে তাতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সফল হবে,তাতেই আমার স্বার্থকতা।

‘এসো, হাত ধরো’ আমার প্রথম উপন্যাস। বেশ কিছু কবিতার বই প্রকাশের পর অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অনিন্দ্য প্রকাশের প্রকাশক শ্রদ্ধেয় মোঃ আফজাল হোসেন এই উপন্যাসটি প্রকাশ করেছেন। ধ্রুব এষের মতো দেশ সেরা প্রচ্ছদশিল্পী আমার উপন্যাসের প্রচ্ছদ করেছেন। আরও যারা আমাকে এই উপন্যাসটি লিখতে উৎসাহ ও মুগ্ধতা দেখিয়েছেন তাঁদেরকে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
উপন্যাসটি পাঠকের মনকে ছুঁয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এটি নির্মাণে কিছু ভুল ত্রুটি থাকতে পারে,পাঠক তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আস্থা রাখি।ভালোবাসার জয় হোক।
প্রতিটি ভালোবাসাহীন হতাশ হৃদয়ে
এমন একদিন আসুক-
যেদিন হাজার মানুষের ভীড়ে একটা হাত গম্বুজ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়বে সামনে-
ভালোবাসার আহবানে সম্মোহন জানিয়ে বলবে –
“এসো, হাত ধরো।”
.
মিঠা মামুন
লালবাগ, ঢাকা

Share Button
আরও পড়ুন>>> প্রেম নিবেদনের সেরা বাণী
আরও পড়ুন>>> নারী সম্পর্কিত রোমান্টিক উক্তি
আরও পড়ুন>>> অনুপ্রেরণামূলক ১০০ বাণী

error: Content is protected !!