মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং। ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। রাত ১১:৫৩








হৃদয়বিদারক এই ছবিটি শুধু সবাইকে কাঁদায়নি, হার মানিয়েছে মানবতাকেও!

প্রতিনিয়ত আমাদের দেশে কত জায়গায় কত রকমের ঘটনাই না ঘটে। তবে কিছু কিছু ঘটনা আছে খুবই মর্মান্তিক যা কল্পনা করতেও ভয় হয়। আর তেমনি এক ঘটনা গতকাল ঘটে গিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সেখানে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ছাদ থেকে মাত্র চার দিনের ছেলে নবজাতককে ছাঁদ ত্থকে ফেলে দিয়ে সীমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূও সেখান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

এই ঘটনার ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ছবিটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে খুবই আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেকেই। বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নির্মম, হৃদয়বিদারক এই ছবিটি। এই ছবিটি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়াকেই কাঁদায়নি। সামাজিক মাধ্যমে পুরো দেশেই শোকের মাতাম তুলেছে ছবিটি।

যে মায়ের কোলে সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকার কথা ছিল সেই কোলই সন্তানের জীবন কেন কেড়ে নিল সেই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন অনেকে।
এ নিয়ে সৈয়দ মো. মহসিন নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখিছেন, ‘এমন মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আয়লান কুর্দির মৃত্যু দুনিয়ার বিবেককে নাড়া দিয়েছিলো।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিস্পাপ শিশুকে নিয়ে দি ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ছাদ থেকে পরে গৃহবধূর মৃত্যর ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা বাংলার মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেল। এমন মৃত্যু কারও কাছেই প্রত্যাশিত নয়। পরপাড়ে ভালো থেকো প্রয়াত মা ছেলে।’
ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রকাশ দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘জীবন চলার টাকা নামক কাগজের কাছে পরাজিত নবজাতকের মরদেহ। নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ, নিথর। যেখানে সকল শব্দেরাই ইতি টানলো।

জীবনের কাছে কতটাই না অসহায় আত্মসমর্পণ ছিল সেই মায়ের, যে মা তার চার দিনের নবজাতককে বহুতল ভবন থেকে ফেলে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিল। পরে নিজেও সেই ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের শেষ অধ্যায়ের রচনা করে গেল। পেছনে রেখে গেল নানা প্রশ্নের ঝুলি।’
এভাবেই অনেকে ফেসবুকে শিশুটির ছবি নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন ছবিটি শুধু মানুষকে কাঁদিয়েছে না। হার মানিয়েছে মানবতাকে।

মা-সন্তানের মৃত্যু ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি। মামলার তদন্তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এই বিষয়ে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ কোন গাফলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share Button

error: Content is protected !!