দেশে নতুন নিয়মে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সোনার দাম

নতুন নিয়মে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। চলতি মাসের মধ্যেই ভ্যাট, মজুরিসহ স্বর্ণালংকারের দামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বুধবার রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে একটি সাধারণ সভা হয়। সভায় সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতা এবং সাধারণ জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। উক্ত সভায় স্বর্ণের অলংকারের সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ করে পুনরায় দাম নির্ধারণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে দাম নির্ধারণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত সমিতি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্যাট, মজুরিসহ দাম নির্ধারণ করলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কারণ,

তখন ২২ ক্যারেট অর্থাৎ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হলে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট ব্যবসায়ীরা এমনটাই আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, ভ্যাট, মজুরিসহ দাম নির্ধারণ করলে সোনার দাম ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছে যাবে। যদিও সাধারণ সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রায় ৭০ শতাংশ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান ছিল। তবুও

পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছি। জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণালংকারের দাম ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকা। মজুরি যোগ হলে প্রতি গ্রাম সোনার দাম হয় ৬ হাজার ৪৮০ টাকা। তার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাটে প্রতি গ্রামের দাম হবে ৬ হাজার ৮০৪ টাকা। এতে এক ভরির স্বর্ণালংকারের দাম দাড়ায় ৭৯ হাজার ৩৬১ টাকা।

উল্লেখ্য, ব্যবসায় স্বচ্ছতা ফেরাতে অনেকদিন ধরেই সোনার দাম নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছিল জুয়েলার্স সমিতি। বছরের প্রথম দিন থেকে সেটি কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বিষয়টি নিয়ে সমিতির শীর্ষ নেতারা দ্রুত এগুলেও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেন।